চিকিৎসকের কাছে যা লুকানো উচিত নয়

আপনি কি পরিমাণে ধূমপান করেন, মদ্যপান করেন, ভোজন করেন ও ব্যায়াম করেন, প্রায়সময় বাইরে সূর্যের আলোতে থাকেন কিনা ইত্যাদি বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে মিথ্যা বলবেন না। আপনার সঠিক তথ্য আপনার চিকিৎসককে সঠিক মূল্যায়নে সাহায্য করবে। আপনার চিকিৎসককে কখনো মিথ্যা বলা উচিত নয় এমন কিছু বিষয় জেনে নিন আজ। 

আপনার অস্ত্রোপচারের ইতিহাস : নতুন চিকিৎসকের কাছে আপনার সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের বিষয় গোপন করবেন না। ‘সার্জারি ছোট হোক কিংবা বড় হোক, আপনি সত্য বলুন, যা ভবিষ্যতে আপনার স্বাস্থ্য সমস্যা উপশম করতে সাহায্য করবে।

আপনার বয়স : আপনি যখন মধ্যবয়স্কের দিকে অগ্রসর হন, আপনার যখন মেনোপজ আরম্ভ হয় অথবা যখন বয়স বাড়ার কারণে ব্যথায় ভুগেন তখন আপনি সম্ভবত সামান্য মিথ্যা বলার জন্য নিজ থেকে প্রলুব্ধ হন। শুধুমাত্র চিকিৎসার প্রেসক্রাইব করার জন্যই যে প্রকৃত বয়স জানা প্রয়োজন তা নয়, রোগ বা শারীরিক দশার প্রকৃত কারণ ধরতেও এটি সাহায্য করে।

আপনার খাবার : যদি আপনি ওজন হ্রাসের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং চিকিৎসকের কাছে আপনার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সত্য না বলেন, তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে খুব একটা সাহায্য করতে পারবে না। ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, রোগীরা কতটুকু খাবার খাচ্ছেন তাতে গুরুত্ব দেন না এবং তারা প্রায়সময় অস্বাস্থ্যকর খাবারে মগ্ন থাকেন। যা ডাক্তারের কাছে লুকালে আপনারই বিপদ।

আপনার ওষুধ : মাঝেমাঝে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছেন কিনা অথবা ক্রিম কিভাবে মেখেছেন। এ বিষয়ে মিথ্যা বলবেন না। ‘যদি আপনি ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে সত্য না বলেন, তাহলে ডাক্তার সঠিকভাবে বুঝতে পারব না যে তা কাজ করছে নাকি করছে না।’ তিনি কোনো ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টের রোগীকে প্রশ্ন করেন যে কতদিন ধরে ওষুধ চালিয়ে গেছেন অথবা কিভাবে ওষুধ সেবন করেছেন বা প্রয়োগ এটা জানা জরুরি।

আপনার ধূমপানের অভ্যাস : ‘রোগীরা যেসব বড় অভ্যাস সম্পর্কে প্রায়সময় সত্য এড়িয়ে চলেন তাদের একটি হচ্ছে ধূমপান। নিকোটিন হিলিং বা নিরাময়ের জন্য খুব ক্ষতিকর এবং অনেক সার্জন সার্জারি করেন না, কারণ দীর্ঘ নিরাময় প্রক্রিয়ার কারণে ইনসিশন বা সার্জিক্যাল কাট উল্লেখযোগ্য ক্ষতে রূপ নিতে পারে। কখনো কখনো রোগীরা সার্জারি সম্পাদনের জন্য ধূমপান সম্পর্কে মিথ্যা বলেন, কিন্তু পরিণামে তাদেরকে ব্যাপক ভুগতে হয়।’

আপনার সাপ্লিমেন্ট  : কখনো কখনো রোগীরা যে ভিটামিন, সাপ্লিমেন্ট অথবা হার্ব গ্রহণ করেন তা স্বীকার করতে চান না, কারণ তাদের চিকিৎসক তাদেরকে প্রাকৃতিক চিকিৎসায় আস্থা রাখার জন্য তিরস্কার করতে পারেন। কিন্তু আপনার শরীরের জন্য সর্বাধিক কার্যকরী ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে তাদের জানা প্রয়োজন যে আপনি প্রতিদিন কি গ্রহণ করছেন।’

আপনার রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ : রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে ড্রাগ সেবনের কথা স্বীকার করতে চান না, কারণ তারা চায় না যে এ তথ্য তাদের মেডিক্যাল রেকর্ডের একটি অংশ হোক। তারা ভয় পায় যে এটি তাদের ইন্সুরেন্স পলিসি অথবা চাকরিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’ সঠিকভাবে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য আপনার স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ চিত্র ও বদভ্যাস সম্পর্কে চিকিৎসকের জানা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *