একটানা কাজ করলে কী প্রভাব পড়ে

একটানা কাজ করলে শরীরের ওপর যে প্রভাব পড়ে সেটি মোটামুটি সবারই জানা। এটি নিয়ে এতদিন তেমন বড় কোনো গবেষণা কেউ করেনি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য মতে, সারা বিশ্বের অন্তত এক দশমিক ৮ বিলিয়ন কর্মীর ৪০০ মিলিয়ন মানুষ প্রতি সপ্তাহে ৪৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করে থাকে। আর যারা প্রতি সপ্তাহে ৪৯ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন তাদের শরীর এবং মনের ওপর বেশ প্রভাব পড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা বেশি সময় কাজ করা কর্মীদের কম পরিশ্রম করা কর্মীদের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি থাকে। এই মানসিক ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হলো অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া।যারা অলসভাবে সারাদিন বসে থাকে কাজ করে না চর্বি কোষগুলো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। একটানা অনেকক্ষণ সোজা হয়ে বসে থাকলে শিরদাড়ার লিগামেন্টের অনেক ক্ষতি হয়। এর ফলে পিঠের মাংশপেশিতেও বেশ চাপ পড়ে। এছাড়া একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকলে কোমরের নিচের ও পায়ের মাংশপেশি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে কোমরের নানা সমস্যার পাশাপাশি পায়ে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।

একটানা বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। মেরুদণ্ডের জয়েন্ট অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটানা বসে থাকার ফলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া নানা ধরনের মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যেমন, হ্যালুসিনেশন, চিন্তা ক্ষমতা লোপ পাওয়া, বুদ্ধি কমে যাওয়া ইত্যাদি।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন একটানা ৩ ঘণ্টার বেশি বসে বসে কাজ করেন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৬৪% বেশি। অনেকক্ষণ বসে থাকলে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় এনজাইম ‘লিপোপ্রোটিন লিপেস’ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে, হার্টে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

বিশেষ করে কেউ যদি একটানা ১৭/১৮ ঘণ্টা বিশ্রামহীন জেগে থাকে এবং ৮/৯ ঘণ্টা অফিসে কাজ করে তাহলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৭৩ কেজি ওজনের কোনো পুরুষ যদি সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠে যদি রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করে এবং অন্তত ৩৫৫ মিলিলিটারের দুই ক্যান বিয়ার পান করেন তাহলে তা তার শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ঐ লোকের রক্তে তখন এলকোহলের মাত্রা  থাকে ০.০৫ শতাংশ। আবার ঐ ব্যক্তি যদি ভোর ৫টা পর্যন্ত জেগে থাকে তাহলে তার রক্তে এলকোহলের মাত্রা থাকবে ০.১ শতাংশ। অর্থাৎ একটানা বেশিক্ষণ বিশ্রামহীন থাকলে, পরের চার ঘণ্টা বেশি জেগে থাকার কারণে তার রক্তে এলকোহলের মাত্রাও বেড়ে যায়।

আবার টাইম জোনের পার্থক্যের কারণে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশের হয়ে কাজ করতে সারারাত জেগে থাকতে বাধ্য হয়। এইভাবে রাত জেগে কাজ করার প্রভাবও পড়ে কর্মীদের শরীরের ওপর।-বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *